নমস্কার! আমার কেন্দ্রীয় মন্ত্রীমণ্ডলের সহযোগী শ্রী রমেশ পোখরিয়া নিশঙ্কজী, শ্রী সঞ্জয় ধোত্রেজী, ন্যাশনাল এডুকেশন পলিসি – জাতীয় শিক্ষানীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী দেশের বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক ড. কস্তুরি রঙ্গনজী এবং তাঁর টিম, এই সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী উপাচার্যগণ, অন্যান্য সমস্ত শিক্ষাবিদ, সমস্ত সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ এবং আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক অভিনন্দন।
ন্যাশনাল এডুকেশন পলিসি – জাতীয় শিক্ষানীতির প্রেক্ষিতে আজকের এই অনুষ্ঠান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কনক্লেভ থেকে ভারতের শিক্ষার জগতে ন্যাশনাল এডুকেশন পলিসি – জাতীয় শিক্ষানীতির প্রভাবের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারীত আলোচনা হবে। এই আলোচনা যত বেশি স্পষ্ট হবে ততই জাতীয় শিক্ষানীতির বাস্তবায়ন সহজ হবে।
বন্ধুগণ, ৩-৪ বছর ধরে ব্যাপক আলাপ আলোচনার পর লক্ষ লক্ষ পরামর্শ নিয়ে দীর্ঘ মন্থনের পর এই জাতীয় শিক্ষানীতিকে মঞ্জুর করা হয়েছে। আজ সারা দেশে এটা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষজন ভিন্ন ভিন্ন বিচার ধারার ব্যক্তিগণ তাঁদের মতামত দিচ্ছেন, জাতীয় শিক্ষানীতি নিয়ে পর্যালোচনা করছেন। এটা একটা স্বাস্থ্যকর বিতর্ক। এই বিতর্ক যত বেশি হবে, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ততটাই লাভবান হবে। এটা অত্যন্ত আনন্দের বিষয় যে জাতীয় শিক্ষানীতি দেশের কোনও ক্ষেত্র থেকে কোনও বর্গ থেকে এই অভিযোগ আসেনি যে এটা পক্ষপাতদুষ্ট শিক্ষানীতি বা এটা কোনও বিশেষ দিকে ঝুঁকে আছে। এটা একটা সূচকও যে জনগণ বছরের পর বছর ধরে চলে আসা শিক্ষা ব্যবস্থায় যে পরিবর্তন চাইছিলেন, সেটা তাঁরা দেখতে পাচ্ছেন।
এমনিতে কারো কারো মনে এই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক যে এত বড় সংস্কার কাগজে কলমে তো করে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু একে কেমনভাবে বাস্তবায়িত করা হবে! অর্থাৎ সকলের নজর এর বাস্তবায়নের দিকে। এই চ্যালেঞ্জকে দেখে, আমাদের ব্যবস্থাকে সূচারুভাবে এর উপযোগী করে তুলতে যেখানে যেখানে সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে তা আমাদের সকলকে মিলেমিশে করতে হবে, আর করতেই হবে। আপনারা সবাই জাতীয় শিক্ষানীতির বাস্তবায়নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত আর সেজন্যে আপনাদের ভূমিকা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যতদূর পর্যন্ত রাজনৈতিক ইচ্ছা শক্তির প্রশ্ন রয়েছে, আমি সম্পূর্ণরূপে দায়বদ্ধ, আমি সম্পূর্ণরূপে আপনাদের সঙ্গে রয়েছি।
বন্ধুগণ, প্রত্যেক দেশ নিজের শিক্ষা ব্যবস্থাকে নিজেদের জাতীয় মূল্যবোধের সঙ্গে যুক্ত করে, নিজেদের জাতীয় লক্ষ্য অনুসারে প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে করতে এগিয়ে চলে। উদ্দেশ্য থাকে যে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, তার বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ভবিষ্যতের জন্য তৈরি রাখবে, ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করবে। ভারতের ন্যাশনাল এডুকেশন পলিসি – জাতীয় শিক্ষানীতির ভিত্তিও এই ভাবনা থেকে উদ্ভুত। জাতীয় শিক্ষানীতি, একবিংশ শতাব্দীর ভারতের, নতুন ভারতের ভিত্তি প্রস্তুত করবে। একবিংশ শতাব্দীর ভারতের, আমাদের নবীন প্রজন্মের যে ধরণের শিক্ষা চাই, যে ধরণের দক্ষতা চাই এই জাতীয় শিক্ষানীতি সেদিকে গুরুত্ব দিয়েছে।
ভারতকে শক্তিশালী করে তুলতে উন্নয়নের নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে ভারতের নাগরিকদের আরও ক্ষমতায়িত করতে তাঁদের যত বেশি সম্ভব সুযোগ পাওয়ার জন্য উপযুক্ত করে তুলতে এই শিক্ষানীতিতে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। যখন ভারতের ছাত্ররা নার্সারি পর্যায় থেকে শুরু করে মহাবিদ্যালয় পর্যন্ত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পড়াশোনা করবে, দ্রুত পরিবর্তনশীল সময় এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রয়োজনের নিরিখে পড়াশোনা করবে, তবেই তারা জাতি গঠনে দৃষ্টিশীল ও ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে পারবে।
বন্ধুগণ, বিগত অনেক বছর ধরে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরণের পরিবর্তন হয়নি। পরিণাম স্বরূপ আমাদের সমাজের জিজ্ঞাসা এবং কল্পনাকে মূল্যবোধে রূপান্তরিত করার জায়গায় পৌত্তলিকতাকে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছিল। কখনও ডাক্তার হওয়ার জন্য দৌড়ঝাপ, কখনও ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার জন্য দৌড়ঝাপ আবার কখনও উলিক হওয়ার জন্য দৌড়ঝাপ। ছাত্রের নিজস্ব রুচি, পছন্দ, ক্ষমতা এবং চাহিদাগুলিকে ম্যাপিং না করেই প্রবৃত্তি থেকে শিক্ষা ব্যবস্থাকে বের করে আনার প্রয়োজন ছিল। যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের শিক্ষায় আবেগ থাকবে না, শিক্ষার দর্শন থাকবে না, শিক্ষার উদ্দেশ্য থাকবে না, ততক্ষণ আমাদের ছাত্রদের মধ্যে, আমাদের যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে, জটিল ভাবনা এবং উদ্ভাবক ভাবনা কিভাবে বিকশিত হবে!
বন্ধুগণ, আজ গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়ানদিবসও। তিনি বলতেন – “উচ্চতম শিক্ষা হল সেটাই যা আমাদের শুধু তথ্য দেয় না, আমাদের জীবনের সমস্ত অস্তিত্বের সঙ্গে সদ্ভাব নিয়ে আসে”।
নিশ্চিতভাবেই জাতীয় শিক্ষানীতির বৃহৎ লক্ষ্য গুরুদেবের এই বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটা বুঝতে বিচ্ছিন্নভাবে না ভেবে একটি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজন। জাতী শিক্ষানীতি সেই সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিকে তুলে ধরতে সফল হয়েছে।
বন্ধুগণ, আজ যখন জাতীয় শিক্ষানীতি মূর্ত রূপ নিয়েছে, তখন আমি সেই সময় আর প্রশ্নগুলি নিয়েও আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করতে চাই, যা আমাদের সামনে, আমাদের শাসনকালের গোড়ার দিকে তুলে ধরা হয়েছিল। সেই সময় যে দুটি প্রশ্ন সব থেকে বড় ছিল, তা হল যে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা, আমাদের যুব সম্প্রদায়কে সৃষ্টিশীল, জিজ্ঞাসু এবং দায়বদ্ধ জীবন বাঁচার জন্য প্রেরণা জোগায় কি? আপনারা সবাই এত বছর ধরে এই ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত আছেন। আপনারা এই প্রশ্নের জবাব খুব ভালোভাবেই জানেন।
বন্ধুগণ, আমাদের সামনে দ্বিতীয় প্রশ্ন হল যে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা আমাদের যুব সম্প্রদায়কে ক্ষমতায়িত করে, দেশে একটি ক্ষমতায়িত সমাজ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সাহায্য করে কি? আপনারা সবাই এই প্রশ্নগুলির সঙ্গে পরিচিত আর এর জবাবগুলি সম্পর্কেও জানেন। বন্ধুগণ, আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে ভারতের ন্যাশনাল এডুকেশন পলিসি – জাতীয় শিক্ষানীতিকে রচনার সময় নিবিড়ভাবে এই প্রশ্নগুলি নিয়ে কাজ হয়েছে।
বন্ধুগণ, এই পরিবর্তনশীল সময়ের পাশাপাশি একটি নতুন বিশ্ব ব্যবস্থা, একটি নতুন রংরূপ এবং ব্যবস্থাগুলিতে পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন বিশ্ব ব্যবস্থা গড়ে উঠছে। একটি নতুন বিশ্বমানও নির্ধারিত হচ্ছে। সেদিক থেকে দেখতে গেলে ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় আত্মনবীকরণের অত্যন্ত প্রয়োজন হয়ে উঠেছিল। স্কুল কারিকুলামের ১০+২ কাঠামো থেকে এগিয়ে এখন ৫+৩+৩+৪ কারিকুলামের কাঠামোতে পরিবর্তন করা, এই লক্ষ্যেই একটি পদক্ষেপ। আমাদের ছাত্রদের বিশ্ব নাগরিকও করে তুলতে হবে, আবার সেদিকেও নজর রাখতে হবে যে, তাঁরা যাতে বিশ্ব নাগরিক হয়ে ওঠার পাশাপাশি নিজেদের শেকড়ের সঙ্গেও যুক্ত থাকেন। তার মানে শেকড় থেকে বিশ্বজগৎ, মানুষ থেকে মানবতা পর্যন্ত, অতীত থেকে আধুনিকতা পর্যন্ত সমস্ত বিষয়কে একত্রিত করে এই জাতীয় শিক্ষানীতির স্বরূপ নির্ণয় করা হয়েছে।
বন্ধুগণ, এই বিষয়ে কোনো বিবাদ নেই যে বাচ্চারা বাড়িতে যে ভাষায় কথা বলে, তার সঙ্গে স্কুলে পড়াশোনার ভাষা এক হলে তাদের শিক্ষার গতি উন্নত হয়। এটা একটা অত্যন্ত বড় কারণ যেজন্যে যতটা সম্ভব, পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত শিশুদের তাদের মাতৃভাষায় পড়াশোনার ক্ষেত্রে সকলেই সহমত প্রকাশ করেছেন। এর ফলে, শিশুদের শিক্ষার ভিততো শক্তিশালী হবেই, প্রত্যেকের পরবর্তী পড়াশোনার ক্ষেত্রেও ভিত মজবুত হবে।
বন্ধুগণ, এখন পর্যন্ত আমাদের যে শিক্ষা ব্যবস্থা, এতে কী নিয়ে ভাবতে হবে সে দিকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নতুন শিক্ষানীতিতে কিভাবে ভাবতে হবে সেদিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এটা আমি এজন্য বলছি আজ আমরা যে সময়ে বসবাস করছি সেখানে তথ্য এবং বিষয়ের কোনো অভাব নেই। একপ্রকার তথ্য ও বিষয়ের বন্যা এসেছে, আপনাদের মোবাইল ফোনেই সমস্ত ধরণের তথ্য পেয়ে যাবেন। এটা জানা প্রয়োজন যে কোন্ তথ্যটা রপ্ত করতে হবে, কোন্ তথ্যটা পড়তে হবে। এদিকে লক্ষ্য রেখেই নতুন জাতীয় শিক্ষানীতিতে দীর্ঘ পাঠক্রম এবং অনেক অনেক বই ঘেটে পড়াশোনা করার অনিবার্যতাকে কিভাবে কম করা যায় সেই চেষ্টা করা হয়েছে। এখন চেষ্টা করা হচ্ছে শিশুদের শেখার জন্য জিজ্ঞাসা ভিত্তিক, আবিষ্কার ভিত্তিক, আলোচনা ভিত্তিক এবং বিশ্লেষণ ভিত্তিক পদ্ধতিগুলিতে জোর দেওয়া। এর ফলে শিশুদের শেখার ইচ্ছে বৃদ্ধি পাবে এবং শ্রেণীকক্ষে তাদের অংশগ্রহণও বৃদ্ধি পাবে।
বন্ধুগণ, প্রত্যেক ছাত্রের এই সুযোগ পাওয়া উচিত, সে যেন তার আবেগকে অনুসরণ করতে পারে। সে নিজের সুবিধা এবং প্রয়োজন অনুসারে কোনো ডিগ্রি অথবা কোর্স অনুসরণ করতে পারে আর তার ভালো না লাগলে ছেড়েও দিতে পারে। অনেক সময় এরকম হয় যে কোনো কোর্স করার পর ছাত্র যখন চাকরি প্রার্থী হয় তখন সে জানতে পারে যে সে যা যা পড়াশোনা করেছে তা চাকরির প্রয়োজন মেটায় না। অনেক ছাত্রকে ভিন্ন ভিন্ন কারণে কোনও কোর্স ছেড়ে দিয়ে চাকরিতে ঢুকতে হয়, এমন ছাত্র-ছাত্রীদের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে ‘মাল্টিপিল এন্ট্রি – এগজিট’-এর ‘অপশন’ দেওয়া হয়েছে। এখন ছাত্র বা ছাত্রীটি ফিরে গিয়ে তাঁর পুরনো কোর্সের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তাঁর চাকরির প্রয়োজনের হিসেব থেকে বেশি কার্যকরি পদ্ধতিতে পড়াশোনা করতে পারবে, শিখতে পারবে। এর আরেকটি দিক রয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় এখন ছাত্রদের এই স্বাধীনতাও থাকবে যে তাঁরা যদি কোনও কোর্স মাঝখানে ছেড়ে অন্য কোর্সে ভর্তি হতে চান, সেটাও তাঁরা করতে পারবেন। সেজন্যে তাঁরা আগের কোর্স থেকে একটি নিশ্চিত সময় পর্যন্ত ‘ব্রেক’ নিয়ে অন্য কোর্সে যোগ দিতে পারবেন। উচ্চতর শিক্ষাকে ‘স্ট্রীম’-এর ভাবনা থেকে মুক্ত করতে, ‘মাল্টিপল এন্ট্রি’ এবং ‘এগজিট, ক্রেডিট ব্যাঙ্ক’ এর প্রয়োগের পেছনে এটাই মূল ভাবনা। আমরা সেই যুগের দিকে এগিয়ে চলেছি যেখানে কোনও ব্যক্তি সারা জীবন ধরে নির্দিষ্ট কোনো পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকবেন না, পরিবর্তন নিশ্চিত এটা মেনে চলতে হবে। সেজন্য তাঁকে নিরন্তর নিজেকে পুনর্দক্ষ এবং দক্ষতা উন্নয়ণ করে যেতে হবে। ন্যাশনাল এডুকেশন পলিসি – জাতীয় শিক্ষানীতিতে সেদিকেও লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
বন্ধুগণ, যে কোনো দেশের উন্নয়নে একটি বড় ভূমিকা থাকে – সমাজের প্রত্যেক বর্গের গরিমা, তাঁদের আত্মসম্মানবোধ। সমাজের কোনো ব্যক্তি যে কাজই করুন না কেন, কেউই কারও থেকে নিচু হন না! আমাদের এটা ভাবতে হবে যে ভারতের মতো সাংস্কৃতিক দৃষ্টিতে সমৃদ্ধ দেশে এই কু-সংস্কার কোথা থেকে এসেছে? এই উঁচু-নীচু ভাব, যাঁরা পরিশ্রম করেন, মজুরি করেন তাঁদের প্রতি হীনভাব – এধরণের বিকৃতি আমাদের মধ্যে কিভাবে বাসা বেঁধেছে? এই উল্টো দৃষ্টি, দৃষ্টিভঙ্গীতে এই বৈপরীত্বের ভাবনা কিভাবে এসেছে? এর একটা বড় কারণ হল, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সমাজের এই বিরাট অংশের দীর্ঘকালীন যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা। যখন কেউ দেশের গ্রামগুলিতে যাবেন, কৃষক, শ্রমিক, মজুরদের কাজ করতে দেখবেন তখনই তাঁদের সম্পর্কে জানতে পারবেন, তাঁদেরকে বুঝতে পারবেন। তাঁরা প্রতিদিন সমাজে কতবড় অবদান রাখছেন, সমাজের প্রয়োজনগুলি মেটানোর জন্য তাঁরা কিভাবে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করছেন! আমাদের প্রজন্মের মানুষদের তাঁদেরকে সম্মান করা শিখতে হবে। সেজন্য নতুন জাতীয় শিক্ষানীতিতে ছাত্রদের শিক্ষা এবং শ্রমের মর্যাদার উপর অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বন্ধুগণ, একবিংশ শতাব্দীর ভারত থেকে গোটা বিশ্বের অনেক প্রত্যাশা। ভারতের মেধা এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্বের সমস্ত সমস্যার সমাধান করার সামর্থ আছে! আমাদের এই আন্তর্জাতিক দায়িত্বের দিকেও আমাদের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি লক্ষ্য রেখেছে। জাতীয় শিক্ষানীতিতে যে সমাধানগুলির কথা বলা হয়েছে, সেগুলিতে ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির
Addressing ‘Conclave on Transformational Reforms in Higher Education under National Education Policy.’ https://t.co/RmsnBiB37z
— Narendra Modi (@narendramodi) August 7, 2020
आज राष्ट्रीय शिक्षा नीति की देशभर में चर्चा हो रही है। 3-4 साल के व्यापक विचार-विमर्श और लाखों सुझावों पर लंबे मंथन के बाद इसे स्वीकृत किया गया है।
— Narendra Modi (@narendramodi) August 7, 2020
अब सबकी निगाहें इसके Implementation पर हैं। इस चैलेंज को देखते हुए जहां कहीं कुछ सुधार की आवश्यकता है, उसे हमें मिलकर ही करना है। pic.twitter.com/ulVM8qVtLe
हर देश अपनी शिक्षा व्यवस्था को अपनी National Values के साथ जोड़ते हुए, अपने National Goals के अनुसार रिफॉर्म करते हुए चलता है।
— Narendra Modi (@narendramodi) August 7, 2020
राष्ट्रीय शिक्षा नीति 21वीं सदी के भारत की, नए भारत की नींव तैयार करने वाली है। pic.twitter.com/qyScNQuC4a
हमें अपने विद्यार्थियों को Global Citizen भी बनाना है और इसका भी ध्यान रखना है कि वे अपनी जड़ों से जुड़े रहें।
— Narendra Modi (@narendramodi) August 7, 2020
जड़ से जग तक,
मनुज से मानवता तक,
अतीत से आधुनिकता तक,
सभी बिंदुओं का समावेश करते हुए इस राष्ट्रीय शिक्षा नीति का स्वरूप तय किया गया है। pic.twitter.com/WU38a1qto5
अभी तक जो हमारी शिक्षा व्यवस्था है, उसमें What to Think पर फोकस रहा है,
— Narendra Modi (@narendramodi) August 7, 2020
जबकि इस शिक्षा नीति में How to Think पर बल दिया जा रहा है।
कोशिश यह है कि बच्चों को सीखने के लिए Discovery Based, Discussion Based और Analysis Based तरीकों पर जोर दिया जाए। pic.twitter.com/mIbqhkYPT0
21वीं सदी के भारत से पूरी दुनिया को बहुत अपेक्षाएं हैं।
— Narendra Modi (@narendramodi) August 7, 2020
भारत में सामर्थ्य है कि वह टैलेंट और टेक्नोलॉजी का समाधान पूरी दुनिया को दे सकता है।
इस जिम्मेदारी को भी हमारी एजुकेशन पॉलिसी Address करती है। pic.twitter.com/98IzoBnIau
राष्ट्रीय शिक्षा नीति का जैसे-जैसे विस्तार होगा, शिक्षा संस्थानों की ऑटोनॉमी की प्रक्रिया भी और तेज होगी। pic.twitter.com/tsWJRcuoDS
— Narendra Modi (@narendramodi) August 7, 2020
राष्ट्रीय शिक्षा नीति में Teacher Training पर बहुत जोर है, वे अपनी Skills लगातार अपडेट करते रहें, इस पर बहुत जोर है। pic.twitter.com/xBew4k3Efw
— Narendra Modi (@narendramodi) August 7, 2020
National Education Policy- राष्ट्रीय शिक्षा नीति के संदर्भ में आज का ये event बहुत महत्वपूर्ण है।
— PMO India (@PMOIndia) August 7, 2020
इस कॉन्क्लेव से भारत के Education World को National Education Policy- राष्ट्रीय शिक्षा नीति के विभिन्न पहलुओं के बारे में विस्तृत जानकारी मिलेगी: PM @narendramodi
जितनी ज्यादा जानकारी स्पष्ट होगी फिर उतना ही आसान इस राष्ट्रीय शिक्षा नीति का Implementation भी होगा।
— PMO India (@PMOIndia) August 7, 2020
3-4 साल के व्यापक विचार-विमर्श के बाद, लाखों सुझावों पर लंबे मंथन के बाद राष्ट्रीय शिक्षा नीति को स्वीकृत किया गया है: PM @narendramodi
आज देशभर में इसकी व्यापक चर्चा हो रही है।
— PMO India (@PMOIndia) August 7, 2020
अलग-अलग क्षेत्र के लोग, अलग-अलग विचारधाराओं के लोग, अपने views दे रहे हैं, राष्ट्रीय शिक्षा नीति को Review कर रहे हैं।
ये एक Healthy Debate है, ये जितनी ज्यादा होगी, उतना ही लाभ देश की शिक्षा व्यवस्था को मिलेगा: PM @narendramodi
ये भी खुशी की बात है कि राष्ट्रीय शिक्षा नीति आने के बाद देश के किसी भी क्षेत्र से, किसी भी वर्ग से ये बात नहीं उठी कि इसमें किसी तरह का Bias है, या किसी एक ओर झुकी हुई है: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) August 7, 2020
कुछ लोगों के मन में ये सवाल आना स्वभाविक है कि इतना बड़ा Reform कागजों पर तो कर दिया गया, लेकिन इसे जमीन पर कैसे उतारा जाएगा।
— PMO India (@PMOIndia) August 7, 2020
यानि अब सबकी निगाहें इसके Implementation की तरफ हैं: PM @narendramodi
आप सभी राष्ट्रीय शिक्षा नीति के implementation से सीधे तौर पर जुड़े हैं और इसलिए आपकी भूमिका बहुत ज्यादा अहम है।
— PMO India (@PMOIndia) August 7, 2020
जहां तक Political Will की बात है, मैं पूरी तरह कमिटेड हूं, मैं पूरी तरह से आपके साथ हूं: PM @narendramodi
हर देश, अपनी शिक्षा व्यवस्था को अपनी National Values के साथ जोड़ते हुए, अपने National Goals के अनुसार Reform करते हुए चलता है।
— PMO India (@PMOIndia) August 7, 2020
मकसद ये होता है कि देश का Education System, अपनी वर्तमान औऱ आने वाली पीढ़ियों को Future Ready रखे, Future Ready करे: PM @narendramodi
भारत की National Educational Policy- राष्ट्रीय शिक्षा नीति का आधार भी यही सोच है।
— PMO India (@PMOIndia) August 7, 2020
राष्ट्रीय शिक्षा नीति, 21वीं सदी के भारत की, नए भारत की Foundation तैयार करने वाली है: PM @narendramodi
बीते अनेक वर्षों से हमारे Education System में बड़े बदलाव नहीं हुए थे।
— PMO India (@PMOIndia) August 7, 2020
परिणाम ये हुआ कि हमारे समाज में Curiosity और Imagination की Values को प्रमोट करने के बजाय भेड़ चाल को प्रोत्साहन मिलने लगा था: PM @narendramodi
हमारे students में, हमारे युवाओं में Critical और Innovative ability विकसित कैसे हो सकती है, जबतक हमारी शिक्षा में Passion ना हो, Philosophy of Education ना हो, Purpose of Education ना हो: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) August 7, 2020
आज गुरुवर रबीन्द्रनाथ ठाकुर की पुण्यतिथि भी है।
— PMO India (@PMOIndia) August 7, 2020
वो कहते थे - "उच्चतम शिक्षा वो है जो हमें सिर्फ जानकारी ही नहीं देती बल्कि हमारे जीवन को समस्त अस्तित्व के साथ सद्भाव में लाती है।"
निश्चित तौर पर राष्ट्रीय शिक्षा नीति का बृहद लक्ष्य इसी से जुड़ा है: PM @narendramodi
आज मुझे संतोष है कि भारत की नेशनल एजुकेशन पॉलिसी- राष्ट्रीय शिक्षा नीति को बनाते समय, इन सवालों पर गंभीरता से काम किया गया।
— PMO India (@PMOIndia) August 7, 2020
बदलते समय के साथ एक नई विश्व व्यवस्था खड़ी हो रही है।
एक नया Global Standard भी तय हो रहा है: PM @narendramodi
इसके हिसाब से भारत का एजुकेशन सिस्टम खुद में बदलाव करे, ये भी किया जाना बहुत जरूरी था।
— PMO India (@PMOIndia) August 7, 2020
School Curriculum के 10+2 structure से आगे बढ़कर अब 5+3+3+4 curriculum का structure देना, इसी दिशा में एक कदम है: PM @narendramodi
जड़ से जग तक,
— PMO India (@PMOIndia) August 7, 2020
मनुज से मानवता तक,
अतीत से आधुनिकता तक,
सभी बिंदुओं का समावेश करते हुए, इस राष्ट्रीय शिक्षा नीति का स्वरूप तय किया गया है: PM @narendramodi
इस बात में कोई विवाद नहीं है कि बच्चों के घर की बोली और स्कूल में पढ़ाई की भाषा एक ही होने से बच्चों के सीखने की गति बेहतर होती है।
— PMO India (@PMOIndia) August 7, 2020
ये एक बहुत बड़ी वजह है जिसकी वजह से जहां तक संभव हो, 5th class तक, बच्चों को उनकी मातृभाषा में ही पढ़ाने पर सहमति दी गई है: PM @narendramodi
अभी तक जो हमारी शिक्षा व्यवस्था है, उसमें What to Think पर फोकस रहा है।
— PMO India (@PMOIndia) August 7, 2020
जबकि इस शिक्षा नीति में How to think पर बल दिया जा रहा है।
ये मैं इसलिए कह रहा हूं कि आज जिस दौर में हम हैं, वहां Information और Content की कोई कमी नहीं है: PM @narendramodi
अब कोशिश ये है कि बच्चों को सीखने के लिए Inquiry-based, Discovery-based, Discussion based, और analysis based तरीकों पर जोर दिया जाए।
— PMO India (@PMOIndia) August 7, 2020
इससे बच्चों में सीखने की ललक बढ़ेगी और उनके क्लास में उनका Participation भी बढ़ेगा: PM @narendramodi
हर विद्यार्थी को, Student को ये अवसर मिलना ही चाहिए कि वो अपने Passion को Follow करे।
— PMO India (@PMOIndia) August 7, 2020
वो अपनी सुविधा और ज़रूरत के हिसाब से किसी डिग्री या कोर्स को Follow कर सके और अगर उसका मन करे तो वो छोड़ भी सके: PM @narendramodi
Higher education को streams से मुक्त करने, multiple entry और Exit, Credit Bank के पीछे यही सोच है।
— PMO India (@PMOIndia) August 7, 2020
हम उस era की तरफ बढ़ रहे हैं जहां कोई व्यक्ति जीवन भर किसी एक प्रोफेशन में ही नहीं टिका रहेगा।
इसके लिए उसे निरंतर खुद को re-skill और up-skill करते रहना होगा: PM @narendramodi
जब गांवों में जाएंगे, किसान को, श्रमिकों को, मजदूरों को काम करते देखेंगे, तभी तो उनके बारे में जान पाएंगे, उन्हें समझ पाएंगे, उनके श्रम का सम्मान करना सीख पाएंगे।
— PMO India (@PMOIndia) August 7, 2020
इसलिए राष्ट्रीय शिक्षा नीति में student education और Dignity of Labour पर बहुत काम किया गया है: PM @narendramodi
21वीं सदी के भारत से पूरी दुनिया को बहुत अपेक्षाएं हैं।
— PMO India (@PMOIndia) August 7, 2020
भारत का सामर्थ्य है कि कि वो टैलेंट और टेक्नॉलॉजी का समाधान पूरी दुनिया को दे सकता है हमारी इस जिम्मेदारी को भी हमारी Education Policy address करती है: PM @narendramodi
अब टेक्नोलॉजी ने हमें बहुत तेजी से, बहुत अच्छी तरह से, बहुत कम खर्च में, समाज के आखिरी छोर पर खड़े Student तक पहुंचने का माध्यम दिया है।
— PMO India (@PMOIndia) August 7, 2020
हमें इसका ज्यादा से ज्यादा उपयोग करना है: PM @narendramodi
वर्चुअल लैब जैसे कॉन्सेप्ट ऐसे लाखों साथियों तक बेहतर शिक्षा के सपने को ले जाने वाला है, जो पहले ऐसे Subjects पढ़ ही नहीं पाते थे जिसमें Lab Experiment जरूरी हो: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) August 7, 2020
जब Institutions और Infrastructure में भी ये Reforms, Reflect होंगे, तभी राष्ट्रीय शिक्षा नीति को अधिक प्रभावी और त्वरित गति से Implement किया जा सकेगा: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) August 7, 2020
Good-Quality Education का रास्ता इन दोनों मतों के बीच में है।
— PMO India (@PMOIndia) August 7, 2020
जो संस्थान Quality education के लिए ज्यादा काम करे, उसको ज्यादा Freedom से Reward किया जाना चाहिए।
इससे Quality को Encouragement मिलेगा और सबको Grow करने के लिए Incentive भी मिलेगा: PM @narendramodi
शिक्षा व्यवस्था में बदलाव, देश को अच्छे students, अच्छे प्रोफेशनल्स और उत्तम नागरिक देने का बहुत बड़ा माध्यम आप सभी Teachers ही हैं, प्रोफेसर्स ही हैं।
— PMO India (@PMOIndia) August 7, 2020
इसलिए नेशनल एजुकेशन पॉलिसी-राष्ट्रीय शिक्षा नीति में dignity of teachers का भी विशेष ध्यान रखा गया है: PM @narendramodi
एक प्रयास ये भी है कि भारत का जो टेलेंट है, वो भारत में ही रहकर आने वाली पीढ़ियों का विकास करे।
— PMO India (@PMOIndia) August 7, 2020
राष्ट्रीय शिक्षा नीति में teacher training पर बहुत जोर है, वो अपनी skills लगातार अपडेट करते रहें, इस पर बहुत जोर है: PM @narendramodi
नेशनल एजुकेशन पॉलिसी- राष्ट्रीय शिक्षा नीति को अमल में लाने के लिए हम सभी को एकसाथ संकल्पबद्ध होकर काम करना है।
— PMO India (@PMOIndia) August 7, 2020
यहां से Universities, Colleges, School education boards, अलग-अलग States, अलग-अलग Stakeholders के साथ संवाद और समन्वय का नया दौर शुरु होने वाला है: PM @narendramodi
राष्ट्रीय शिक्षा नीति सिर्फ सर्कुलर जारी करके, नोटिफाई करके Implement नहीं होगी।
— PMO India (@PMOIndia) August 7, 2020
इसके लिए मन बनाना होगा, आप सभी को दृढ़ इच्छाशक्ति दिखानी होगी।
भारत के वर्तमान और भविष्य को बनाने के लिए आपके लिए ये कार्य एक महायज्ञ की तरह है: PM @narendramodi